গাইবান্ধায় সংঘর্ষে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা মেশিন ভাংচুর

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার মেশিন ভাংচুর করা হয়।

মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার মেশিন ভাংচুর করেছে উপজেলা জাতীয় পার্টি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের অপসারণের দাবিতে পৌর এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের মূল ফটকে এ ঘটনার সময় মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা ডিজিটাল ঘড়ি ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাপড়হাটী ইউনিয়নের ছাত্র সমাজের সভাপতি সাইফুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। সাইফুল দক্ষিণ মরুয়াদহ গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিআইও নুরুন্নবী সরকারের অপসারণের দাবিতে উপজেলা জাতীয় পার্টি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার সকালে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের মূল ফটকে যায়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ করার একপর্যায়ে মূল ফটকের উপরে ঝুঁলানো মুজিব শতবর্ষের ডিজিটাল ক্ষণগণনা ঘড়ি ভাংচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন মিয়া প্রতিবাদ করলে সেখানে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ওই ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি শাহ সুলতান সরকার সুজন, পৌর ছাত্র সমাজের সভাপতি সুমন মিয়া, পৌর ছাত্রলীগ আহ্বায়ক মাইদুল ইসলাম, যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা জনি মিয়া, বাবলু মিয়া, ঠিকাদার আব্দুর রউফ সরকার পিয়ালসহ ১০ জন আহত হয়। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পৌর এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মুজিব শতবর্ষ ক্ষণগণনা ডিজিটাল মেশিন ভাংচুরের ঘটনা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহ মো. ফেরদৌস হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহিল জামান জানান, ডিজিটাল মেশিন ভাংচুরের ঘটনা নিয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভাংচুরের ঘটনায় ছাত্র সমাজ নেতা সাইফুল ইসলাম আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী জানান, মুজিব শতবর্ষ ক্ষণগণনা ডিজিটাল মেশিনটি ভাংচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানা পুলিশকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-আহ্বায়ক আশরাফুল আলম সরকার জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো দলের নয়। তিনি সবার নেতা। মুজিব শতবর্ষ ক্ষণগণনা ডিজিটাল মেশিন ভাংচুরের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ দিকে সুন্দরগঞ্জের ওই ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এক বিবৃতিতে যে সব দুষ্কৃতকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করার জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সুন্দরগঞ্জ পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুর রশিদ ডাবলু বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ক্ষণগণনা ডিজিটাল মেশিনটি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি। অন্যায়ভাবে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সরকারদলের কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

দিকদিগন্ত/জেআই

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*