আলমডাঙ্গায় তালাকের পর ফিরিয়ে দেয়া গহনা আত্মসাৎ করলেন কাজি

স্বামীকে তালাক দিয়ে স্ত্রীর ফিরিয়ে দেওয়া গহনা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কাজি আলমগীরের বিরুদ্ধে। তালাকের পর স্বামী পক্ষের লোকজন মেয়ের বাড়িতে গহনার দাবি নিয়ে গেলে ওই ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়ে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে আলমডাঙ্গার প্রাগপুর গ্রামে।

জানা গেছে, হারদী ইউনিয়নের প্রাগপুর গ্রামের ইমাদুল হকের মেয়ে খাদিজা বেগমের সাথে ৮ মাস আগে একই ইউনিয়নের মোড়ভাঙ্গা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে শাহীনের বিয়ে। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্যজীবন সুখের হয়নি। সংসার জীবনের অশান্তির শেষ পর্যায়ে এসে খাদিজা সিদ্ধান্ত নেয় স্বামীকে তালাক দেওয়ার।

গত শনিবার (২৭ জুন) খাদিজার পিতা ইমাদুল হক ইউনিয়নের সরকারী কাজি মোহাম্মদপুর কুয়াতলা গ্রামের আলমগীর হোসেনকে বাড়িতে ডেকে নেন। তারা মেয়ের চাচা প্রাগপুর গ্রামের এনামুল হকের বাড়িতে বসেন। সেখানেই তালাক নামা লেখালেখি হয়। খাদিজা বেগম তার স্বামী শাহীনের তালাকনামায় সই করে দেয়।

কাজির বাড়ি ও শাহীনের বাড়ি পাশাপাশি গ্রাম ও পরিচিত হওয়ায় খাদিজার পিতা ইমাদুল হক কাজিকে অনুরোধ করেন, বিয়ের দিন শাহীনের দেওয়া কানের দুল ও নাকের ফুল শাহীনদের বাড়িতে যেন পৌছে দেওয়া হয়। কাজি আলমগীর হোসেনও গহনা দুইটি ছেলের বাড়িতে পৌছে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

কিন্ত তালাকের পরদিন কাজি আলমগীর হোসেন তালাকনামার সার্টিফাইড কপি শাহীনদের বাড়িতে দিয়ে এলেও গহনা দুটি দেননি। একইদিন শাহীনের পিতা ইসমাইল হোসেন ও প্রতিবেশী মঈনুদ্দিন হোসেন প্রাগপুর গ্রামে গিয়ে মেয়ে পক্ষের লোকজনের সাথে গহনা সম্পর্কিত কথা তোলেন। তারা জানিয়ে দেয় দুটি গহনা কাজি আলমগীরের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতেই ধরা পড়ে যান কাজি আলমগীর হোসেন।

এ ব্যাপারে হারদী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর জিল্লুর রহমান জানান, ছেলের পিতা ইসমাইল ও মঈনুদ্দিন গহনার ব্যাপারে প্রথমে আমার কাছে আসেন। আমি তাদেরকে মেয়ের পিতার কাছে নিয়ে যাই।

হারদী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বর সিদ্দিকুর রহমান জানান, তালাকের সময় আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম। বিয়ের সময় ছেলে পক্ষের দেওয়া দুইটি গহনা কাজির মাধ্যমে ফেরৎ দেওয়া হয়। কিন্ত শুনছি তিনি গহনা দুইটি ফেরৎ দেননি। এটা খুবই লজ্জাজনক।

এ বিষয়ে কাজি আলমগীর হোসেন জানান, তালাক হয়ে গেলেও ছেলে পক্ষের কোন দাবি ছিল না। গহনা দুটি আমার কাছে আছে এখন দিয়ে দেব।

তিনদিন পার হলেও কেন দেননি জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, যেসব মেম্বররা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন তারা আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলেন। আর গহনা দেয়া না দেয়ার বিষয়টা আমি আর ছেলে পক্ষ দেখব। এতে মেয়ে পক্ষের কিছু বলার নেই। তিনি আরো বলেন, গহনা দুইটির দাম বেশী হলেও ১০ হাজার টাকা হবে। এই সামান্য টাকার জিনিষ আমি কেন আত্মসাৎ করবো?

দিকদিগন্ত/জেআই

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*